বিসমিল্লাহির রহমানীর রহীম ।
.........সবই বুঝলাম চটিগল্পের কাহিনী পুরোটাই
বানানো , আমি তো শুধুই পড়ছি ওরকম কিছু তো করছিনা ।
চটি গল্প পড়লেন আর নিজে মজা নিলেন ব্যাপারটা কিন্তু এখানেই শেষ নয় , পিকচার আভি
বাকি হ্যায় । চটি গল্পের নেশা আপনাকে তিলে তিলে ধ্বংস করে ফেলবে । আপনার দৃষ্টি শক্তি কমে যাবে ,স্মৃতি শক্তি
কমে যাবে । আপনার মস্তিষ্কে বড়সড় একটা পরিবর্তন আসবে এবং এই পরিবর্তনটা ক্ষতিকর । চটি গল্প পড়ার সময় আপনার মস্তিষ্ক কিছু রাসায়নিক পদার্থ (phenylethylamine
এবং adrenaline) নিঃসরণ করবে , স্বাভাবিক যৌনতার সময় যে রাসায়নিক পদার্থগুলো (oxytocin এবং dopamine) নিঃসরিত
হয় তার চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা । এই রাসায়নিক গুলো মস্তিষ্কের
সাইন্যাপস এ ঘুরে বেড়াবে এবং কোকেন আপনার
মস্তিষ্কের যেই ক্ষতিটা করবে ঠিক সেই ক্ষতিটাই করবে ।
[পড়তে পারেনঃ মাদকের রাজ্যে- http://tinyurl.com/ht59spz ]
মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটি একটা এক্সপেরিমেন্ট
চালিয়েছিল চটিগল্প, যৌনতা সম্পর্কে
মহিলাদের দৃষ্টিভঙ্গি কীভাবে বদলে দেয়
সেটার ওপর । দেখা গেল , যেসব মহিলারা চটিগল্প পড়ে তাদের মদ্যপান করার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে । তাদের
একাধিক যৌনসঙ্গী থাকে , অবাধ যৌনাচার, বেহায়াপনায় তারা গা ভাসিয়ে দেয় ।[১]
অনেকেই বলেন যে , “ চটিগল্প বা পর্নমুভি হচ্ছে
আমার সেক্স এডুকেশানের মাধ্যম”
উদ্দেশ্য
বেশ ভালো কিন্তু পদ্ধতিটা খুবই খারাপ । চটিগল্প বা পর্নমুভি কখনোই সেক্স এডুকেশানের মাধ্যম হতে পারে না ।
আমরা প্রথম পর্বেই আলোচনা করেছিলাম চটিগল্প যৌনতা সম্পর্কে কি ভুরি ভুরি মিথ্যে
পাঠকদের গলাধঃকরন করাচ্ছে । চটি গল্প নারীকে বানিয়েছে একটা সেক্স অবজেক্ট , যে
কখনো না বলে না , যে যেকোন উপায়েই যেকোন সময় যেকোন পুরুষের মনোরঞ্জনের জন্য প্রস্তুত । চটিগল্প
পুরুষকে বানিয়েছে একটা সেক্স মেশিন যে
ঘন্টার পর ঘন্টা কর্মক্ষম । চটিগল্পে
আসক্ত পাঠক পাঠিকা এই ভুল ধারনা গুলো নিয়ে দিন পার করেন । বিয়ের পরে শুরু হয়
ঝামেলা ।
চটিগল্প থেকে সেক্স এডুকেশান পাওয়া স্ত্রী ভাবেন , “আরে আমার স্বামীতো
ওরকম ম্যানলি না! ওইদিকে স্বামী
ভাবেন , “যা শালা! বউ দেখি অন্যরকম” । এভাবে একজন , অপরজনের ওপর অসুন্তুষ্ট হন , শারীরিক দুরত্ব থেকে মানসিক দুরত্ব বাড়ে ।
একসময় ডিভোর্সও হয়ে যায়। স্বামী স্ত্রীকে জোর করেন চটিগল্পের নায়িকাদের মতো আচরন
করতে এমন ঘটনাও অনেক । স্ত্রী বেচারী নিজ স্বামীর হাতেই ধর্ষিত হয় , নীরবে চোখের পানি ফেলা ছাড়া কিছু করার থাকে
না ।
বাবমার সম্পর্কের টানাপড়েনর প্রভাব পড়ে সন্তানদের ওপরে । তাদের সুস্থ ভাবে
বেড়ে ওঠা বাঁধাপ্রাপ্ত হয় ।
[স্বামী স্ত্রীর সম্পর্কে পর্নমুভি কি ভয়ংকর জটিলতা সৃষ্টি করে
তা নিয়ে খুব পছন্দের একটা লিখা ‘১০৮ টি নীল পদ্ম’ http://tinyurl.com/guupnfo । পড়ার অনুরোধ রইলো । পর্নমুভির
জায়গায় শুধু চটিগল্প বসিয়ে নিয়ে পড়ে
ফেলবেন । ইনশা
আল্লাহ্ স্বচ্ছ একটা ধারনা পাবেন কীভাবে চটিগল্প স্বামী স্ত্রীর সম্পর্কে জটিলতা
সৃষ্টি করে ]
টেড বান্ডি নামে কুখ্যাত একটা লোক থাকতো আমেরিকাতে । লোকটা সিরিয়াল কিলার
ছিল , মেয়েদের কিডন্যাপ করত , তারপর রেপ করে মেরে ফেলত [পড়ুন ‘সিরিয়াল কিলার’ সিরিজি
- http://tinyurl.com/hr6hzrj , http://tinyurl.com/zgo4dm2 ] ।
ফাঁসিতে ঝোলার
পূর্বে দেওয়া এক ইন্টারভিউতে বান্ডি বলেছিল, সে ছোট
বেলায় বাড়ীর বাইরের ডাস্টবিনে কিছু চটিগল্পের বই খুঁজে পায় । সেদিনই তার
প্রথম পরিচয় ঘটে অশ্লীল এই জগতটার সঙ্গে । তারপর ধীরে ধীরে সে হার্ডকোর পর্নমুভিতে
আসক্ত হয়ে যায় । এই আসক্তিই তার মানসিকতা নষ্ট করে দেয় , এই আসক্তিই তার মধ্যে
কামের যে আগুন জ্বালিয়ে দেয় তাতে পুড়ে
ছারখার হয়ে যায় প্রায় শখানেক তরুনীর জীবন ।
ছোট বাচ্চাদের খুব আগ্রহ থাকে ইলেক্ট্রনিক
গ্যাজেটগুলোর প্রতি । সুযোগ পেলেই ঘেঁটে দেখে ।
আপনার বাসায় ছোট বাচ্চা আছে বা বেড়াতে এসেছে । সে আবদার ধরলো ,
“ তোমার ফোন দাও তো একটু , গেম খেলব’। আপনি ফোন দিয়ে দিলেন তার হাতে । সে ঘাঁটতে ঘাঁটতে রাতের বেলা পড়ার
জন্য আপনি যে চটিগল্পের পিডিএফ গুলো নামিয়ে ছিলেন সেগুলো পেয়ে গেল , অথবা আপনার
ব্রাউজার এর হিস্টোরি থেকে কোন চটি গল্পের
সাইটে ঢুকে গেল ।
আপনার কারণে সে পরিচিত হয়ে গেল চটিগল্পে । আপনি কি গ্যারান্টি দিতে পারবেন এই বাচ্চাটার
চটিগল্পের নেশা হবে না? পর্ন মুভিতে সে আসক্ত হবে না ? বড় হয়ে সে আরেকটা টেড বান্ডি হবে না ?
চটি গল্পের নেশা বা পর্ন আসক্তি তার নিজের
জীবনতো ধ্বংস করবেই , তার স্ত্রীর জীবনও নষ্ট করবে , সংসার তছনছ করে দিবে , তার ছেলেমেয়ের
ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে যাবে । তার এতবড় ক্ষতি করার কোন অধিকার নেই আপনার
।
কীভাবে কাটিয়ে উঠবেন জীবন নষ্টকারী চটি গল্পের
নেশা ? কিভাবেই’বা ছোট ছোট বাচ্চাদের
রক্ষা করবেন চটিগল্পের বিষধর ছোবল থেকে ?
ইনশা আল্লাহ্
, সবকিছু আলোচনা করা হবে পরবর্তী পর্বে ।
প্রথম দুই পর্ব পড়ুন এখানে –
প্রথম পর্ব- http://tinyurl.com/ztlblr4
দ্বিতীয় পর্ব- http://tinyurl.com/hv8yfm5
রেফারেন্সঃ

No comments:
Post a Comment