বিসমিল্লাহির রহমানীর রহীম ।
ব্যাপারটা দুঃখজনক ।
LGBT’র শুরুটা হয়েছিল
ভন্ড আলফ্রেড কিনসের হাত ধরে । সেক্স নিয়ে অনেক গাঁজাখুরি রিসার্চ করেছিল এই লোকটা
। তারপরের দায়িত্বটুকু কাঁধে
তুলে নিয়েছিল রক ফেলার ইন্সটিটিউট,
প্ল্যান্ট প্যারেন্টহুড,পশ্চিমা মিডিয়া ।
এরা ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে এই ‘বিজ্ঞামনস্ক’ লোকটার একেবারেই অবৈজ্ঞানিক
পদ্ধতিতে করা রিসার্চগুলো বিশ্ববাসীর সামনে উপস্থাপন করেছে । তার রিসার্চ
পেপারগুলো যেন আসমান থেকে আসা কোন ঈশ্বরের বাণী । অক্ষরে অক্ষরে মেনে নিতে হবে সব
কিছু । পরবর্তীতে বিজ্ঞানী এবং গবেষকরা
আলফ্রেড কিনসের রিসার্চগুলো
তুলোধুনো করে ছেড়েছিলেন । কিন্তু যা ক্ষতি হওয়ার তা ইতিমধ্যেই হয়ে গিয়েছিল
। যৌনতার ব্যাপার স্যাপার গুলো আমেরিকানরা (সে তা সাধারন নাগরিকই হোক বা রাষ্ট্রের
নীতি নির্ধারক) দেখেছে আলফ্রেড কিনসের পড়িয়ে দেওয়া চশমার ভেতর থেকেই । তাইতো
কিন্ডারগার্ডেনের বাচ্চাদেরকেও সেক্স এডুকেশানের নামে সমকামিতার শিক্ষা দেওয়া হয়,
মাস্টারবেট করতে উৎসাহিত করা
হয় । কিছু দিন আগে তো ‘সমলিঙ্গ বিবাহ’ আইনও পাশ হয়ে গিয়েছে ।

কিন্তু এর চেয়েও দুঃখজনক
ব্যাপার হলো পাশ্চাত্যের কিছু স্কলার, দা’ঈ এর সাম্প্রতিক
কিছু কর্মকাণ্ড ।উনারা ঘুরিয়ে, পেঁচিয়ে , হিকমাহর আড়ালে সমকামিতাকে
স্বাভাবিক ব্যাপার হিসেবে মুসলিমদের গ্রহণ করে নিতে বলছেন।
সুবহানাল্লাহ!
কুরআন এবং হাদীসে সুস্পষ্ট ভাবে উল্লেখ করা
হয়েছে এটা খুবই জঘন্য কবীরা গুনাহ । এর শাস্তি মৃত্যুদন্ড । আজ
কুফফারদের কাছে ইসলামের ইমেজ রক্ষার নামে আল্লাহর দেওয়া বিধানের বিরুদ্ধাচারণ করা
হচ্ছে, সুকৌশলে বদলে দেওয়া হচ্ছে আল্লাহ্র বিধান।
সুবহানাল্লাহ !
Islamqa এর
একটি ফতোয়া (https://islamqa.info/en/38622) অনুবাদ করে দেওয়া হল এখানে ।
কুরআন,হাদীসে আলোকে সমকামিতা, সমকামীদের
ব্যাপারে সালাফদের দৃষ্টিভঙ্গি কেমন
সবকিছুই আলোচনা করা হয়েছে এতে ইনশা আল্লাহ্ । আল্লাহ্ (সুবঃ) আমাদেরকে এই জঘন্য পাপ থেকে
হেফাজত করুন । আমাদেরকে তথাকথিত স্কলারদের ফিতনা থেকে রক্ষা করুক ।
.........প্রথমত, ইসলামে
যতগুলো কবীরা গুনাহ আছে তাদের মধ্যে সমকামিতা একটি।এটি এতোটাই গর্হিত যে পুরো একটি
জাতি পর্যন্ত এর কারণে মর্মান্তিকভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে।আল্লাহ আমাদের সবাইকে হেফাজত
করুন।
আল্লাহ বলেন,
“আর আমি লুত(আঃ)কে নবুওয়াত
দান করে পাঠিয়েছিলাম যখন তিনি তার সম্প্রদায়কে বলেছিলেন, ‘তোমরা কি এমন অশ্লীল ও
কুকর্ম করছো যা তোমাদের আগে বিশ্বে আর কোন জাতি করে নি?’
নিঃসন্দেহে তোমরা নারীদের
পরিবর্তে পুরুষদের দিয়ে তোমাদের যৌন ইচ্ছা নিবারণ করে নিচ্ছো।প্রকৃতপক্ষে তোমরা
হলে সীমালঙ্ঘনকারী সম্প্রদায়।’
কিন্তু তাঁর জাতির লোকদের
একমাত্র উত্তর ছিল এটাই যে, ‘এদেরকে তোমাদের জনপদ থেকে বের করে দাও, নিঃসন্দেহে
এরা পবিত্র।’
অবশেষে আমি লুতকে(আঃ) ও তার
পরিবারকে শাস্তি হতে রক্ষা করেছিলাম শুধুমাত্র তার স্ত্রী ছাড়া কেননা সে ছিল
ধ্বংসপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত।
তারপর আমি তাদের ওপর
মুষলধারে পাথরের বৃষ্টি বর্ষণ করেছিলাম।সুতরাং অপরাধীদের পরিণাম কি হয়েছিল তা
লক্ষ্য করো।”
(সূরা আল-আরাফঃ৮০-৮৪)
এছাড়াও আরেক জায়গায় আল্লাহ
বলেন,
“অতঃপর সূর্যোদয়ের সময় এক
বিকট আওয়াজ তাদের পাকড়াও করলো।
আর আমি জনপদকে উল্টিয়ে
উপর-নিচ করে দিলাম এবং তাদের উপর প্রস্তর-কঙ্কর নিক্ষেপ করলাম।
অবশ্যই এতে নিদর্শন রয়েছে
পর্যবেক্ষণ সম্পন্ন ব্যাক্তিদের জন্য।
নিঃসন্দেহে সেগুলো(শহরের
ধ্বংসস্তূপ) এখনও লোক চলাচলের পথের পাশে বিদ্যমান।”
(সূরা হিজরঃ৭৩-৭৬)
এইবার কিছু হাদিস নিয়ে
আলোচনা করা যাক।
ইবনে আব্বাস(রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে মহানবী(সাঃ) বলেছেন, “লুত(আঃ)
এর সময়কার লোকজন যা করতো তা যদি কাউকে করতে দেখো তাহলে তাকে এবং যার সাথে করা
হয়েছে তাকেও মৃত্যুদণ্ড দান করো।”(আবু দাউদ,তিরমিজী ও ইবনে মাজাহ)
ইবনে আব্বাস(রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত আরেকটি হাদিস
এসেছে সুনান আহমাদে।মহানবী(সাঃ) বলেছেন, “তার উপর আল্লাহর গযব পড়ুক যে লুত(আঃ) এর
সম্প্রদায়ের লোকদের মত কাজ করে।”এই
কথা তিনি তিনবার উচ্চারণ করেছেন।
সমকামীদের মৃত্যুদণ্ডের ব্যাপারে সাহাবীগণ একমত ছিলেন।কিন্তু মৃত্যুদণ্ডের পদ্ধতি নিয়ে ছিল মতভেদ।কেউ কেউ মনে করতেন যে ওদের আগুনে পুড়িয়ে মারাটাই শ্রেয় আবার কেউ কেউ ভাবতেন যে উঁচু কোন জায়গা থেকে ফেলে দিয়ে পাথর নিক্ষেপ করলেই যথেষ্ট।
সমকামীদের মৃত্যুদণ্ডের ব্যাপারে সাহাবীগণ একমত ছিলেন।কিন্তু মৃত্যুদণ্ডের পদ্ধতি নিয়ে ছিল মতভেদ।কেউ কেউ মনে করতেন যে ওদের আগুনে পুড়িয়ে মারাটাই শ্রেয় আবার কেউ কেউ ভাবতেন যে উঁচু কোন জায়গা থেকে ফেলে দিয়ে পাথর নিক্ষেপ করলেই যথেষ্ট।
সমকামিতার শাস্তির ব্যাপারে
৩ ধরনের মতামত সবচেয়ে বেশি আলোচিতঃ
প্রথমটি হল সমকামীর
মৃত্যুদণ্ড অবধারিত।
বিবাহিত না অবিবাহিত তাতে কিছু আসে যায় না।এই মতকে সায় দিয়েছেন
আবু বকর(রাঃ),আলী(রাঃ),খালিদ ইবনে ওয়ালিদ(রাঃ),ইবনে আব্বাস(রাঃ),আব্দুল্লাহ ইবনে
জুবায়ের(রাঃ),ইমাম আহমাদ(রহঃ),ইমাম মালিক(রহঃ) প্রমুখ ব্যাক্তিবর্গ।
শাফেয়ী মাজহাবের সিদ্ধান্ত
হল যদি সে বিবাহিত হয় তাহলে তাকে পাথর মারা হবে আর অবিবাহিত হলে চাবুক ঠিক যেমনটা
জিনার শাস্তি হিসেবে প্রচলিত।
আবার ইমাম আবু হানিফা(রহঃ)
মনে করতেন যে সমকামিতার শাস্তি জিনার শাস্তির মতো এতো কঠিন হওয়া ঠিক না এবং তা
নির্ধারণ করার অধিকার তিনি বিচারককেই দিয়েছেন।
প্রথম মতামতটি যারা ব্যক্ত
করেছেন, আপাতদৃষ্টিতে তা কঠোর বলে মনে হলেও এর পেছনে যে ব্যাখা রয়েছে তা কিন্তু
বেশ জোরদার।তারা বলেন, লুত(আঃ) এর জাতিকে আল্লাহ যেভাবে পরীক্ষা করেছেন এর আগে
অন্য কোন জাতির ক্ষেত্রে তা করেন নি।এই অপকর্মের জন্য তাদের ধাপে ধাপে শাস্তি
দেওয়া হয়েছে, একবারে শেষ করে দেওয়া হয় নি।তাদের বাড়িঘর উল্টিয়ে উপর-নিচ করা হয়েছে,
তাদের ওপর পাথর নিক্ষেপ করা হয়েছে, দৃষ্টিশক্তি কেড়ে নেওয়া হয়েছে, মাটি তাদের গিলে
খেয়েছে ইত্যাদি।এসব ছিল যথেষ্ট অবমাননাকর।তাদের জঘন্য কৃতকর্মের জন্যই তাদের এ ভয়াবহ
পরিণাম আল্লাহ নিশ্চিত করেছেন ও আমাদের সতর্ক করেছেন।
একবার খালিদ ইবনে
ওয়ালিদ(রাঃ) খুঁজে বের করলেন যে কোন এক আরবীয় গোত্রে এক লোক আছে যার সাথে নাকি
অন্যান্য পুরুষরা যৌনকর্মে লিপ্ত হয়।তিনি খবর পাকাপোক্ত করে আবু বকরের(রাঃ) কাছে
চিঠি পাঠালেন।এ নিয়ে সাহাবীদের মধ্যে পর্যাপ্ত আলোচনা হল।তারপর আলি(রাঃ) মত দিলেন
যে ওই লোককে পুড়িয়ে মারা হোক এবং অবশেষে তাই করা হল।
এখন কথা হল যার সাথে
সমকামিতা করা হয়েছে তার কী হবে?এখানে আসলে দুইটি বিষয় দেখার আছে।
১।কাউকে যদি জোর করে বা
প্রাণহানির ভয় দেখিয়ে এই কাজ করানো হয়, তাহলে সে মাজলুম হিসেবে চিহ্নিত হবে।অর্থাৎ
সে নির্দোষ কারণ স্বেচ্ছায় সে এতে অংশ নেয় নি।তাই তার কোন শাস্তিও নেই।
২।যদি দ্বিতীয় ব্যাক্তি
নাবালক বা উন্মাদ হয় তাহলে তার ক্ষেত্রেও কোন শাস্তি নেই।কিন্তু তাকে ভবিষ্যতে আরও
সজাগ থাকতে হবে।
এই বিষয় দুটি সব আলেমদের
কাছেই স্বীকৃত।
কিন্তু দ্বিতীয় ব্যাক্তি যদি
একজন সমকামী হয় এবং নিজের ইচ্ছায় এই অপকর্মে লিপ্ত হয়ে থাকে তাহলে তার দণ্ডবিধি তো
আগেই উল্লেখ করা হয়েছে।মোদ্দাকথা হল, সমকামিতার শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডকেই বেছে
নেওয়া হয়েছে।এ ব্যাপারে সবাই একমত।শুধু বিতর্ক রয়েছে মৃত্যুদণ্ডের পদ্ধতি নিয়ে।
[দেখা যেতে পারে এই
ফতোয়াটিও- https://islamqa.info/en/10050 ]
No comments:
Post a Comment