বিসমিল্লাহির রহমানীর রহীম।
অনেকে FTND (http://fightthenewdrug.org ) তে নিজেদের জীবনের ব্যক্তিগত ঘটনার কথা বলেন কীভাবে তাদের ও তাদের
সঙ্গীর জীবনে পর্ন প্রভাব ফেলেছে। আমরা এসব ঘটনাবলি খুবই গুরুত্বের সাথে নিয়ে
থাকি। পর্নোগ্রাফির অপকারিতা সম্পর্কে বিজ্ঞান ও গবেষনা নিয়তই কাজ করে যাচ্ছে, সেই
সাথে কারো জীবনের সত্যি কাহিনী আমাদের সামনে আসলে তা জীবন্ত হয়ে তুলে ধরে
পর্নোগ্রাফি বাস্তব জীবনে কী ক্ষতি করছে।
আমরা সম্প্রতি একজনের চিঠি পেয়েছি যিনি
পর্ন থেকে অবাস্তব যৌনাচরণ শিখতে চেষ্টা করার কুফল ভোগ করেছেন। পর্নে যা দেখতে
মজার ও আনন্দদায়ক লাগে তা বাস্তব জীবনে নীচ ও অস্বস্তিকর। আবার এটাই প্রচুর
মানুষের কাছে যৌনশিক্ষার একমাত্র মাধ্যম। এরকম অনেক ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে পর্ন
কীভাবে ভুল যৌনশিক্ষা দেয়, যা সংগীর সাথে সম্পর্কে খারাপ প্রভাব ফেলে যৌনজীবনের
ক্ষতি করে।
......
প্রিয় এডিটর,
আমার বয়স ২৪ বছর, কেনিয়ার অধিবাসী। আমি
১৫ বছর বয়সে ম্যাগাজিনে পর্ন বিষয়ে পড়তে শুরু করেছিলাম। কারন সে সময়ে আমার তখনও
ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ ছিল না। আমি খুব চটপটে ও এ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় এবং নতুন
কিছু শিখতে ভালবাসি। তাই আমার সামনে কোনকিছু আসলে তা না পড়ে থাকতে পারতাম না। এভাবেই
পর্নোগ্রাফির সাথে ম্যাগাজিন থেকে আমার পরিচয়।
পরবর্তীতে যখন ইন্টারনেট ব্যবহারের
সু্যোগ পেলাম, শুরুতেই জানতাম কি খুঁজতে হবে। তখন থেকেই পর্ন দেখা শুরু করলাম ও
পর্নের মেয়েদেরকে নিজের সাথে কল্পনা করতে লাগলাম। সত্যি বলতে, পর্নের এই অভ্যাসটা
আমার কাছে ভালই মনে হত কারন পর্নের মেয়েদের শুধু পর্দায় দেখতে পেতাম আর তাদেরকে
কল্পনা করতে পারতাম বাস্তবে দেখা না করেই বা না শুয়েই। শুরুর দিকে মাত্রাটা বেশি
না থাকলেও কিছুদিন পর আমার নিয়মিত পর্ন দেখার অভ্যাস নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে গেল।
আমি সব সময়ই বিশ্বাস করেছিলাম পর্ন দেখা
এবং এর কলাকুশলীদের নিয়ে গবেষনা করা ভবিষ্যতে আমাকে সংগিনীর জন্য মস্ত ভাল প্রেমিক
করে তুলবে, আরো আকর্ষনীয় করে তুলবে এবং গার্লফ্রেন্ড পেতে সাহায্য করবে। এর একটিও
সত্য হয় নি যদিও। যেমন, পর্ন থেকে পাওয়া টিপস আমাকে বিছানাতে একেবারে বাজে করে
ফেললো। বস্তুত আমার অবস্থা এতই বাজে হয়ে গেল যে, আমি শুধু পর্নের মাধ্যমেই
উত্তেজিত হতাম, গার্লফ্রেন্ডের দ্বারা না। আমি আর কোন কিছুকে পাত্তা দিতাম না,
সারাক্ষন পর্ন দেখতাম, প্রায় সবখানেই, এমনকী জনবহুল জায়গাতেও। এটা হয়ে দাঁড়াল একটা
বড় সমস্যা।
আসলেই পর্ন এক কঠিন নেশা। এটা অস্বস্তিকর
এবং এর ফলাফল সর্বনাশা। একবার আমার এক প্রাক্তন বান্ধবী প্রচণ্ড ভেঙ্গে পড়ে প্রশ্ন
করেছিল, “তুমি কেন শুধু পর্দার ঐ নড়াচড়া করা দৃশ্যগুলোর জন্য আমাকে ধোঁকা দিচ্ছ?” সে
ভীষণ কষ্ট পেয়েছিল, কিন্তু আমি ছিলাম আসক্ত। সে আমাকে এটা ছেড়ে দিতে বলার পরেও যখন
পারলাম না, আমাদের সম্পর্কটা ভেঙ্গে গেল। আমি হতাশ হয়ে পড়লাম।
মজার ব্যপার হল, একটা ধারণা আছে যে, আপনি
চাইলেই যেকোনো সময় পর্ন দেখা ছেড়ে দিতে পারবেন এবং এটা কোন কঠিন বিষয় নয়- কিন্তু
এটা সত্যি না। আপনি যত দেখবেন, তত আরো বেশি চাইবেন। সত্যিই পর্ন সম্পর্কে আগে যা
যা বিশ্বাস করতাম এর সবই মিথ্যা। পর্ন আমাকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে নি, ভাল
প্রেমিক করে তোলে নি, আমার সম্পর্ককে ভাল করে টিকিয়ে রাখে নি। পর্ন থেকে আমি যা
পেয়েছিলাম তা হল বিফলে যাওয়া সময়, গ্লানি এবং যৌনজীবন সম্পর্কে ভুল মন্ত্রণা। আরো
খারাপ বিষয় হল, পর্ন সবখানে ছড়িয়ে থাকে। এমনকী সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমেও। তাই
আমি এ থেকে পালাতে পারতাম না।
কেন আমি পর্ন দেখা বন্ধ করার ও এর
বিরুদ্ধে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নিলাম? গত মাসের শেষ দিকে আমার বান্ধবী সিদ্ধান্ত
নিল আমাদের সম্পর্কের ইতি টানার। এতগুলো ব্যর্থ চেষ্টার
পর আর তাকে বোঝাতে পারি নি যে আমি বদলাতে পারব। খুব কষ্ট
পেয়েছিলাম যখন সে বলেছিল, “পর্ন তোমাকে কেবল একটা অপদার্থ করে ফেলবে। বিদায়।” ভীষণ
হতাশ হলাম কারন সে ছিল আমার তৃতীয় বান্ধবী যে এই কথাটি বললো। এবং জানেন, আমি এর
কোন পাল্টা যুক্তি দেখাতে পারি নি।
সত্যি কথা হল, পর্ন স্বাস্থ্যকর নয়,
উপকারী নয়। আমি সেরে উঠতে চাই নিজের কারনে ও আমার ভবিষ্যতের সম্পর্কগুলোর কারনে।
আশা করি আমার কথাগুলো যে পর্ন দেখা বন্ধ
করতে চাইছে এমন কাউকে অনুপ্রেরণা দেবে। কারণ এ থেকে ভাল কিছুই আসে না। সত্যিই,
পর্ন ভালবাসাকে মেরে ফেলে। FTND
কে ধন্যবাদ ভাল কাজের জন্য।
.........
পর্ন যদিও সীমাহীন যৌনাচার দিয়ে ভরা এক
অবাস্তব জগতের আশা দেখায়, বিজ্ঞান প্রতিনিয়তই প্রমান করে যাচ্ছে বাস্তবটা আসলে ঠিক
এর বিপরীত। তাছাড়া, পর্নের কারনে বিপুল সংখ্যক পুরুষ দর্শক অপূর্ণ যৌনচাহিদার
সমস্যায় ভুগছে। যার মাধ্যমে স্পষ্টতই বোঝা যায়, তারা শুধুমাত্র পর্নের প্রভাবে
তাদের ইরেক্টাইল ডিসফাংশন এর জন্য বাস্তব যৌনক্রিয়ায় আর সক্রিয় থাকতে পারছে না। বিছানায় ভাল প্রেমিক হবার কথা ভুলেই যান, যেখানে পর্ন
আপনাকে একেবারে যৌন নিষ্ক্রিয় দশায় নিয়ে যাচ্ছে।
পর্ন থেকে যৌনশিক্ষা গ্রহণ করা এবং
এ্যাকশন মুভিতে গাড়ি নিয়ে ধাওয়া করার দৃশ্য দেখে গাড়ি চালানো শেখা একই কথা। এখানে
সবই অত্যন্ত অবাস্তব, অতিরঞ্জিত এবং একেবারেই বাস্তব জীবনের কাছাকাছি না। পর্ন এক
প্রকার ফাঁকি, একারনে এটি পারস্পরিক সম্পর্কের মাঝে অবাস্তব চাহিদা তৈরি করে এবং
ভালবাসা ও ঘনিষ্ঠতার মাঝে বিকৃত আচরণ ঢুকিয়ে দেয়।
সমাজকে বুঝতে হবে যে, বাস্তব সংস্রবই
পারে মানুষকে সত্যিকারের যৌনতৃপ্তি দিতে। আপনি যতই পর্ন দেখুন না কেন, দিন শেষে
রক্তমাংসের মানুষের সাথে মেশার কামনাই করবেন। সমাজ এখন প্রযুক্তির সাথে যৌনক্রিয়া
চর্চার ভয়ংকর পথে যাত্রা করছে। পর্ন দেখার অভ্যাসকে স্বাভাবিক বলে ধরে নিলে আমরা
এমন একটা অবস্থায় গিয়ে পৌঁছাব যেখানে বাস্তব সম্পর্কগুলোর জায়গা পর্ন দখল করে
নেবে...
চলবে ইনশা আল্লাহ্
(লস্ট মডেস্টি অনুবাদ টিম কর্তৃক অনূদিত)
আগের পর্ব গুলোঃ
আরো পড়ুনঃ

No comments:
Post a Comment